আমেরিকা , বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ব্যাটল ক্রিকের স্কুলে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীর বন্দুক থেকে গুলি ল্যান্সিংয়ে বাস স্টেশনে বোমা হামলার মিথ্যা হুমকি, ইলিনয়ের নারীকে সাজা দুর্ঘটনায় কয়েক ঘণ্টা বন্ধ, আবার খুলল ম্যাকিনাক ব্রিজ ৫ ধাপ পিছিয়ে ইউ-এম, তবু ‘বেস্ট ভ্যালু’তে মিশিগানে সেরা মিশিগানে ICE-এর থামানোর চেষ্টা, পালাতে গিয়ে দুর্ঘটনায় চালকের মৃত্যু জাতিসংঘের সাধারণ বিতর্কে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ম্যাকম্ব কাউন্টিতে প্রসাধনী চুরির অভিযোগে দুইজন গ্রেপ্তার যেখানে শেষ হয়েছিল জীবন, সেখানেই জেগে রইল জ্যাকোয়ার স্মৃতি বিদ্যুৎ ফিরলেও MSU-তে  কাটেনি বিপর্যয়ের রেশ শরতের শুরুতেই শীতল মিশিগান, সপ্তাহজুড়ে কম তাপমাত্রা নিউইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ডেট্রয়েটে নারীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, সন্দেহভাজন আটক ৩৫ সফরসঙ্গী নিয়ে সোমবার নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী  দ্বিতীয় স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় এমপি গাজী নজরুল ও প্রথম স্ত্রী গ্রেপ্তার আই-৬৯৬ সংস্কারে অগ্রগতি, বছরের শেষে খুলছে লাহসার–আই-৭৫ অংশ পন্টিয়াকে পারিবারিক বিরোধে গুলিতে নিহত ১, আহত ১ হেফাজতে ন্যাম ভবন থেকে এমপি গাজী নজরুেলের দ্বিতীয় স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার দুই জানাজা শেষে চিরনিদ্রায়  শায়িত হলো অপ্রতিম ডেট্রয়েট বিমানবন্দরে একের পর এক ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ আটক লেক ওরিয়ন হাই স্কুলে ব্যাকপ্যাকে গুলিভর্তি বিবি গান, আটক ছাত্রী

বিভুরঞ্জন এর চলে যাওয়া এবং পচে যাওয়া সমাজের গল্প

  • আপলোড সময় : ২৪-০৮-২০২৫ ০১:৩০:৩৭ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৪-০৮-২০২৫ ০১:৩০:৩৭ পূর্বাহ্ন
বিভুরঞ্জন এর চলে যাওয়া এবং পচে যাওয়া সমাজের গল্প
প্রখ্যাত সাংবাদিক বিভুরঞ্জন সরকার নেই। তাঁকে কখনও সামনে থেকে দেখি নি, কিন্তু খবরের কাগজে তাঁর নাম দেখতে দেখতে বড় হয়েছি। অসাধারণভাবে লিখতেন তিনি। সাংবাদিকদের আইকন। আমি তাঁর লেখা পড়তে পড়তেই নিজেও লেখালিখির জগতে প্রবেশ করেছি, সাংবাদিকতার পথ ধরেছি। মনে হতো, তাঁর সাথে আমার আদর্শিক একাত্মতা আছে।
ঘুণে ধরা সমাজের চোখে আঙুল তুলে তিনি কলম চালাতেন। কিন্তু শেষপর্যন্ত সেই সমাজের প্রতিই অভিমান করে পানিতে ঝাঁপ দিলেন। তাঁর জীবনের শেষ লেখা ভাইরাল হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে, সেটি আজ ইতিহাস হয়ে থাকবে।
ড. ইউনুস একসময় বলেছিলেন: আপনারা সত্য লিখুন। অথচ আজকের বাস্তবতা হলো কেউ আর সত্য লিখতে পারে না। আগের সরকারে অন্তত কিছুটা লিখবার সুযোগ ছিল, এখন অঘোষিতভাবে প্রেস নিয়ন্ত্রিত। 
শেখ হাসিনার আমলে জাতীয়তাবাদী আদর্শের অনেক সাংবাদিক ১০, ২০, এমনকি ৫০ লাখ টাকা চিকিৎসা সহায়তা পেয়েছেন। কিন্তু বিভুরঞ্জনের ভাগ্যে জোটেনি কিছুই। সাংবাদিক গোলাম মোর্তজা আজ ওয়াশিংটনে মোটা বেতনের চাকরিতে, ইকবাল সোবহানদের হাতে বিপুল অর্থ, অথচ বিভুরঞ্জন সরকারের জীবন চলছিল না। বিভুরঞ্জন সরকার চেষ্টা করেছেন বারবার, কিন্তু সহযোগিতা পাননি।
আজকের মিডিয়া হাউসগুলো শিল্পপতিদের হাতে বন্দি। তারা সরকারের সাথে তাল মিলিয়ে চলে। সাধারণ মানুষের দুঃখ-দুর্দশা আর খবরে আসে না। ৪২টি টেলিভিশন চ্যানেল আছে দেশে, কিন্তু কোনোটিই জনগণের পাশে দাঁড়ায় না। ছাপার কাগজগুলোও একই রকম। এক ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর এসেছিল আরেক ফ্যাসিস্ট শাসন, আগের চেয়ে পাঁচ গুণ ভয়ঙ্কর।
আমার প্রিয় সাংবাদিক বিভুরঞ্জন সরকার আর নেই। মিডিয়া পাড়ায় আজ শোকের ছায়া। শত শত সাংবাদিক দেশ ছেড়ে পালাতে পেরেছেন, কিন্তু তিনি পারেননি। বয়স, অর্থকষ্ট আর সামাজিক বৈষম্যের কারণে জীবনের শেষপ্রান্তে এসে তিনি খুঁজে নিলেন চিরশান্তির আশ্রয়।
একসময় আমরা শুনতাম, সাগর-রুনিকে সরকার হত্যা করেছে। পরে অপপ্রচার চালিয়ে বলা হলো, তাদের মৃত্যু নাকি ব্যক্তিগত জীবনের কারণে। বছর ঘুরে বছর গেছে, সত্য আড়ালেই রয়ে গেছে। অথচ তাদের মেয়েকে গতকাল সরকার প্লট দিয়েছে, সব হিসাবই গোলমেলে। এদিকে, মনির হায়দারের মতো সেকেন্ড-গ্রেড সাংবাদিক হয়ে গেছেন সিনিয়র সচিব, কেউ বা রাষ্ট্রদূত। দালালদের জয়জয়কার এই অপয়া সমাজে।
আর বিভুরঞ্জন সরকার? তিনি চূড়ান্ত অপমান, দুঃখ আর অভিমানের কাছে হার মানলেন। পানির নিচেই হয়তো পেলেন সেই শান্তি, যা মাটির পৃথিবী তাঁকে দিতে পারেনি।বিভুরঞ্জন এর চলে যাওয়া এবং পচে যাওয়া সমাজের গল্প
প্রখ্যাত সাংবাদিক বিভুরঞ্জন সরকার নেই। তাঁকে কখনও সামনে থেকে দেখি নি, কিন্তু খবরের কাগজে তাঁর নাম দেখতে দেখতে বড় হয়েছি। অসাধারণভাবে লিখতেন তিনি। সাংবাদিকদের আইকন। আমি তাঁর লেখা পড়তে পড়তেই নিজেও লেখালিখির জগতে প্রবেশ করেছি, সাংবাদিকতার পথ ধরেছি। মনে হতো, তাঁর সাথে আমার আদর্শিক একাত্মতা আছে।
ঘুণে ধরা সমাজের চোখে আঙুল তুলে তিনি কলম চালাতেন। কিন্তু শেষপর্যন্ত সেই সমাজের প্রতিই অভিমান করে পানিতে ঝাঁপ দিলেন। তাঁর জীবনের শেষ লেখা ভাইরাল হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে, সেটি আজ ইতিহাস হয়ে থাকবে।
ড. ইউনুস একসময় বলেছিলেন: আপনারা সত্য লিখুন। অথচ আজকের বাস্তবতা হলো কেউ আর সত্য লিখতে পারে না। আগের সরকারে অন্তত কিছুটা লিখবার সুযোগ ছিল, এখন অঘোষিতভাবে প্রেস নিয়ন্ত্রিত। 
শেখ হাসিনার আমলে জাতীয়তাবাদী আদর্শের অনেক সাংবাদিক ১০, ২০, এমনকি ৫০ লাখ টাকা চিকিৎসা সহায়তা পেয়েছেন। কিন্তু বিভুরঞ্জনের ভাগ্যে জোটেনি কিছুই। সাংবাদিক গোলাম মোর্তজা আজ ওয়াশিংটনে মোটা বেতনের চাকরিতে, ইকবাল সোবহানদের হাতে বিপুল অর্থ, অথচ বিভুরঞ্জন সরকারের জীবন চলছিল না। বিভুরঞ্জন সরকার চেষ্টা করেছেন বারবার, কিন্তু সহযোগিতা পাননি।
আজকের মিডিয়া হাউসগুলো শিল্পপতিদের হাতে বন্দি। তারা সরকারের সাথে তাল মিলিয়ে চলে। সাধারণ মানুষের দুঃখ-দুর্দশা আর খবরে আসে না। ৪২টি টেলিভিশন চ্যানেল আছে দেশে, কিন্তু কোনোটিই জনগণের পাশে দাঁড়ায় না। ছাপার কাগজগুলোও একই রকম। এক ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর এসেছিল আরেক ফ্যাসিস্ট শাসন, আগের চেয়ে পাঁচ গুণ ভয়ঙ্কর।
আমার প্রিয় সাংবাদিক বিভুরঞ্জন সরকার আর নেই। মিডিয়া পাড়ায় আজ শোকের ছায়া। শত শত সাংবাদিক দেশ ছেড়ে পালাতে পেরেছেন, কিন্তু তিনি পারেননি। বয়স, অর্থকষ্ট আর সামাজিক বৈষম্যের কারণে জীবনের শেষপ্রান্তে এসে তিনি খুঁজে নিলেন চিরশান্তির আশ্রয়।
একসময় আমরা শুনতাম, সাগর-রুনিকে সরকার হত্যা করেছে। পরে অপপ্রচার চালিয়ে বলা হলো, তাদের মৃত্যু নাকি ব্যক্তিগত জীবনের কারণে। বছর ঘুরে বছর গেছে, সত্য আড়ালেই রয়ে গেছে। অথচ তাদের মেয়েকে গতকাল সরকার প্লট দিয়েছে, সব হিসাবই গোলমেলে। এদিকে, মনির হায়দারের মতো সেকেন্ড-গ্রেড সাংবাদিক হয়ে গেছেন সিনিয়র সচিব, কেউ বা রাষ্ট্রদূত। দালালদের জয়জয়কার এই অপয়া সমাজে।
আর বিভুরঞ্জন সরকার? তিনি চূড়ান্ত অপমান, দুঃখ আর অভিমানের কাছে হার মানলেন। পানির নিচেই হয়তো পেলেন সেই শান্তি, যা মাটির পৃথিবী তাঁকে দিতে পারেনি।
লেখক :
সাংবাদিক ও  কলামিস্ট 
ফ্লোরিডা।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
মিশিগানে মুনা এপিজে অ্যাকশনের উদ্যোগে ভোটার সচেতনতা কর্মসূচি

মিশিগানে মুনা এপিজে অ্যাকশনের উদ্যোগে ভোটার সচেতনতা কর্মসূচি